Apple Vision Pro: অ্যাপল ভিশন প্রো সম্পর্কে আপনার যা জানা দরকার

Apple Vision Pro: অ্যাপল ভিশন প্রো সম্পর্কে আপনার যা জানা দরকার

Hello বন্ধুরা, কেমন আছেন। আশা করি আপনারা আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন। আজ আমি অ্যাপেল এর নতুন একটা ডিভাইস এর সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিব। ডিভাইসটির নাম হলো Apple Vision Pro অ্যাপল কোম্পানির তৈরি করা এই ডিভাইসটির স্পেস্যাল ফিচারগুলো এবং এর অসাধারণ হাই রেজোলিউশন ডিসপ্লে ও এর পাওয়ার ফুল প্রসেসর চিপ এর কারনে গ্রাহকদের কাছে ডিভাইসটি খুব অল্প সময়ের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

তাই আমি অ্যাপল ভিশন প্রো সম্পর্কে আপনার যা জানা দরকার এবং এর অবিশ্বাস জনক ফিচার ও অ্যাপল ভিশন প্রো থেকে কারা উপকৃত হতে পারে, বাজারে কবে আসবে ও বাংলাদেশে Apple Vision Pro এর দাম কত হবে এই বিষয়গুলো সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে এই আর্টিকেলে সকল কিছু আলোচনা করবো। তাই কথা না বাড়িয়ে চলুন শুরু করা যাক আরো এক নতুন বিনোদন জগতের বিপ্লব নিয়ে।  


অ্যাপল ভিশন প্রো কি আসল


Apple ভিশন প্রো হলো অগমেন্টেড রিয়েলিটি বা (AR) এবং ভার্চুয়াল (VR) এর সংমিশ্রণে তৈরি করা একটি স্পেশাল কম্পিউটার যা আমাদের বাস্তব জগৎ এবং কল্পনার জগতের এক্সপিরিয়েন্সটাই বদলে দিয়েছে। অ্যাপল ৫ জুন এই ভিশন প্রো হেডসেট ডিভাইসটি মানুষ সামনে তুলে ধরছে। 


এই অসাধারন হেডসেটের দুইটা ডিসপ্লে জুরে রয়েছে ২৩ মিলিয়ন পিক্সেল সহকারে একটি হাই রেজোলিউশন ডিসপ্লে, উন্নতমানের স্থানীয় অডিও সিস্টেম এবং পাওয়ারফুল প্রসেসর চিপ রয়েছে যা ব্যবহারকারী চারপাশের অবিজ্ঞতা অনেক পরিবর্তন করে দেয়। এর অনেকগুলো সেন্সর থাকায় ব্যবহারকারীর চোখ, মুখ এবং হাতের সরাসরি লাইভ ট্র্যাকিং করতে পারে। 


যার ফলে আপনি খুব সহজে আপনার চোখ ও হাতের সাহায্য এই হেডসেটি কন্ট্রোল করতে পারবেন। আপনার বাস্তব জীবনকে বদলে দিবে এই অ্যাপলের ভিশন প্রো হেডসেট ডিভাইসটি। এই শুধু আপনার বিনোদন জগতের জন্য নয় বরং আপনার প্রফেশনাল জগতেও বিভিন্ন ধরনের কাজে ব্যবহার করতে পারবেন।   

আরো পড়ুন:

• সেরা ৫টি সবচেয়ে কম দামে বাটন মোবাইল এর দাম ২০২৩

মোবাইল ট্রেন টিকেট বুকিং করুন খুব সহজে

Facebook Profile Monetizetion থেকে কীভাবে টাকা আয় করবেন             


অ্যাপল ভিশন প্রো কি করে


এটি আমাদের বাস্তব জগতের সাথে কল্পনার জগৎতের সাথে ইনটারেক্ট করতে সাহায্য করে। যেমন অ্যাপল বলেছে তাদের এই ডিভাইসটা মানুষ শনাক্ত করতে পারে। যখন কোন মানুষ আপনার কাছে আসবে কিছু দেওয়ার জন্য আসবে তখন আশে পাশে বাস্তব জীবনের সবকিছু আপনি দেখতে পারবেন। 


এর স্পেশাল ক্যামেরাগুলো দিয়ে তার লাইভ ভিডিও এবং তার মুভমেন্টগুলো ক্যাপচার করা হয়। যার কারনে আপনি তাকে সরাসরি দেখতে পাবেন এবং তার সাথে কথা বলতে পারবেন হেডসেট না খুলেই সেও আপনার চেয়ার বা চোখ দেখতে পারনে। 


একটা ইন্টারেস্টিং বিষয় হলো আপনার হাতের অঙ্গ ভঙ্গি দিয়ে এই ডিভাইসটিতে থাকা অ্যাপসগুলো পরিচালনা করতে পারবেন। এটি মূলত কাজ করে আপনার চোখের রেটিনাকে ট্র্যাক করে সিলেক্ট করা হয় এবং আপনার হাতের অঙ্গলু দিয়ে তা ওপেন করা হয় এইভাবে কাজ করে অ্যাপলের ভিশন প্রো ডিভাইসটি।

গুগল নিউজে আমাদের সাইটি ফলো করতে এখানে ক্লিক করুন

অ্যাপল ভিশন প্রো এর ফিচারসমূহ 


হাই রেজোলিউশন ডিসপ্লে : এই হেডসেটির দুইটি ডিসপ্লে ২৩ মিলিয়ন পিক্সেল এর হাই রেজোলিউশন ডিসপ্লে ও OLTD নিয়ে গঠন করা হয়েছে। এটি AR ও VR উভয় ব্যবহারকারীকে একটি অসাধারণ ও অবিশ্বাস্য ভার্চুয়াল রিয়্যালিটির এক্সপেরিয়েন্স প্রদান করে। এর ডিসপ্লেতে 120 Hz এর একটি ফাস্ট রিফ্রেশ রেট রয়েছে যা এটির অ্যাপগুলাকে ইসমুতভাবে রান করতে সাহায্য করে এখন কি যখন ব্যবহারকারি তাদের কাথা অনেক দূরত নাড়ছে। যার ফলে অনেক দূরত অ্যাপলের এই ডিভাইসটি জনপ্রিয়তা লাভ করছে।


উন্নত স্পেশাল অডিও সিস্টেম


Apple Vision Pro এটির সবচেয়ে অস্থির জিনিস হলে এর উন্নতমানের স্পেশাল অডুও সিস্টেম। এই অডিও এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা ফিল করেন ভিডিও এর শব্দ গুলো যেন তাদের চারপাশ থেকে আসছে। মূলত এটি করা হয় ব্যআহারকারীর মাথার পজিশন এবং সেন্সরের মাধ্যমে তার ওরিজিন ট্র্যাক করে ও সফ্টওয়ারগুলোর সংমিশ্রণের মাধ্যমে এটি কারা হয়। এই সিস্টেমের বাইরে বা বাস্তব জগৎতের পরিবেশের সাথে মিল রেখে একটি সাউন্ডসস্কেপ তৈরী করে যাতে আপনার মনে হয় আপনি শব্দের মাঝে জড়িয়ে আছেন। যার ফলে এটি আপনার বিনোদন জগতে অনেক বড় একটি ভূমিকা রাখবে।     


অ্যাপল ভিশন প্রো এর ফিচারসমূহ

এডভান্সড সেন্সর সমূহ  


এই ভিশন প্রো হেডসেটিতে দেওয়া আছে ক্যামেরা গভীরতা সেন্সর ও মোশন সেন্সর সহ আরো কয়েকটি সেন্সর রয়েছে। এই সেন্সর এটির মধ্যে ভিশন প্রো এর ব্যবহারকারীদের সরাসরি লাইভ আকারে তাদের চোখ হাত এবং মুখ এর মুভমেন্ট ট্র্যাক করা হয় যার ফলে ব্যবহারকারি খুব সহজে এটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।        


শক্তিশালী নতুন প্রসেসর চিপ


অ্যাপল ভিশন প্রো এর দুটি নতুন চিপ যুক্ত করা হয়েছে। একটি হলো M2 চিপ এবং অপরটি হলো R1 চিপ তা দিয়ে পরিচালিত হবে এই হেডসেটি। M2 হলো 10 কোর GPU সহকারে একটি অত্যধুনিক শক্তিশালী 6 কোর CPU যা AR ও VR অ্যপ্লিকেশনগুলোর জন্য অসাধারণভাবে কাজ করে। আর অপরদিকে R1 চিপ হলো একটি কাস্টম ডিজাইন করা

চিপ যার মাধ্যমে হেডসেট এর সেন্সরগুলো খুব গতিতে ডেটা প্রসেস করতে সাহায্য করে। যার ফলে এই দুইটা চিপের অসাধারন কার্যক্ষমতা মাধ্যমেই অ্যাপল এর ভিশন প্রো ব্যবহারকারীর কাছে অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠতেছে।           


উন্নতমানের 3D অ্যাপ সমূহ


এই ভিশন প্রো ডিভাইসটিতে উন্নতমানের 3D অ্যাপ সমূহ রয়েছে। যার মাধ্যমে আপনি গেম, উৎপাদনশীল অ্যাপ এবং সৃজনশীল অ্যাপ সহ আরো অনেক নতুন এডভান্সড অ্যাপ যুক্ত করা হচ্ছে প্রতিনিত। তারা আরো বলছে তাদের এই হেডসেটিতে আপনার ব্যবহারকীত আইফোন এর সকল পরিচিত অ্যাপ এইখানে দেখতে পাবেন এবং কোন ঝামেলা ছাড়াই তাদের ফোন এর সাথে ইন্টারেক্টশন করতে পারবে।         


আমার মতে আপনি যদি ভার্চুয়াল জগতে পদার্পরন করতে চান এবং আপনার কল্পনার জগতকে আরো এডভান্সড করতে চান তাহলে অ্যাপল এর ভিশন প্রো এর মতো আর কোথায় এমন ডিভাইস খুঁজে পাবেন না। এই মধ্যে আপনর জেনে গেছেন যে অ্যাপল ভিশন প্রো এর ফিচারসমূহগুলো আশা করি আপনারা অনেক মুগ্ধ হয়েছেন এই ডিভাইসটি কর্মক্ষমতা দেখে। 

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেল Join করতে এখানে ক্লিক করুন

অ্যাপল ভিশন প্রো থেকে কারা উপকৃত হতে পারে 


এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ কথ যে এই অ্যাপল ভিশন প্রো থেকে কারা উপকৃত হতে পারে। আমার মতে যারা গেমার,শিক্ষক, ডিজাইনার এবং সিনেমা জগতে কাজ করে তাদের আরো বিপ্লব ঘটানোর জন্য এটা তাদের ব্যাপকভাবে সাহায্য করতে পারে। 


ধরা যাক, গেমার এর কথা চিন্তা করি তারা এই হাই রেজুলেশন এর ডিসপ্লে ও স্পেশাল অডিও সিস্টেম তৈরি করেছে। যার ফলে গেমারের গেমিং এক্সপেরিয়েন্সের অনেক উন্নত করে। গেমাররা তাদের প্রিয় গেমগুলিতে প্রবেশ করতে এবং ভার্চুয়াল জগৎতের পরিবেশ এবং তাদের তৈরি করা চরিত্রগুলোর সাথে ইন্টারঅ্যাক্টি করতে এবং নতুন এডভেঞ্চার দুঃসাহসিক অবিজ্ঞতার পেতে এই ডিভাইসটি অনেক সাহায্য করে থাকে। উন্নত হার্ডওয়্যার সহ এবং কর্মক্ষমতার দিক থেকে Apple Vision Pro একটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও অবিস্মরণীয় গেমিং এক্সপেরিয়েন্স দিতে সক্ষম।    

  

অ্যাপল ভিশন প্রো দিয়ে আপনি কি কি করতে পারবেন


এই ভিশন প্রো দিয়ে উন্নতমানের অনেক কিছু করা যায়। যার আপনি ভালো গেমিং, সিনেমা ও টিভিশো দেখা, আপনার সৃজনশীল কর্ম করা, 3D মডেল তৈরি করা এবং অন্যদের সাথে যোগাযোগ করা। এখন বলি কিভাবে সৃজনশীল জগৎতে আপনি অনেক কিছু করতে পারবেন এই হেডসেটি ব্যবহার করে। কারন আপনি যদি ডিজাইনার হন তাহলে আপনি কোন কিছু ডিজাইন করার জন্য হেডসেটিতে অনেক ভালো ও দূরত গতিতে আপনার যে কোন ডিজাইন করা এবং আপনার সৃজনশীল কর্মকে আরো উন্নত করে তুলবে। 


সবচেয়ে বেশি অবদান রাখবে বিনোদন জগতে কারন আপনি যদি এই হেডসেটি ব্যবহর করে সিনেমা বা টিভি শো দেখেন তাহলে আপনার মনে হবে আপনি কোন এক বিশাল থিয়েটারে বসে সিনেমা দেখছেন। এটা ফিল করার মূল কারন হচ্ছে এর হাই রেজুলেশন ডিসপ্লে ও সুপার স্পেশাল অডিও সাউন্ড সিস্টেম যাতে আপনাকে এক অন্যরকম অবিজ্ঞাতা প্রদান করে।


এর আরেকটা ফিচার হলো আপনি অন্যদের সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন। আপনি খুব সহজে ঘরে বসে থেকে আপনার অফিসে সহকর্মীদের সাথে সরাসরি ভিডিও চ্যাট এর মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারবেন কোন প্রকার ঝামেলা ছাড়াই।


তাই আমার মতে Apple Vision Pro হলো একটি শক্তিশালী ও উন্নত VR সেট যা যে কোন কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি সাধারনত সিনেমা জগতে ও গেমিং জগতে অনেক বড় একটি বিপ্লব বয়ে আনতে পারবে।               

 

বাংলাদেশে Apple Vision Pro এর দাম কত হবে


Apple Vision Pro এর দাম ধরা হয়েছে $3500 ডলার। কিন্তু এখনো বাংলাদেশে Apple Vision Pro এর দাম হবে প্রায় 380,000 টাকার মতো। এই মূল্য পরিবর্তনযোগ্য, এবং এই মূল্য USD এর উপর ভিত্তি করে। আপনরা জানেন যে বাংলাদেশে ডলারের দাম উঠা নামা করে তাই এর উপর পুরাটাই নির্ভর করে ডলারের দামের উপর। এই হেডসেটির দাম বাংলাদেশ অ্যাপল ভিশন প্রো কবে বাজারে আসতে পারে। তারা বলছে ইন্টারনেশনাল বাজারে 2024 সালের মধ্যেই তাদের শোরুমগুলোতে পাওয়া যাবে এই হেডসেটটি। কিন্তু বাংলাদেশ এই ভিচন প্রো আসার সম্ভাব্য সময় হলো 2024 সালের শেষের দিকে।    


আমার শেষ কথা


আশা করি আপনারা এই পোস্টের মাধ্যমে Apple Vision Pro অত্যধুনিক হেডসেটি সম্পর্কে আপনার যা জানা দরকার তা জেনে গেছেন। আমি এই আর্টিকেলে ভিশন প্রো এর সকল কিছু বিস্তারিতভাবে জানানোর চেষ্টা করেছি। যদি আপনি কোন কিছু বুঝতে না পারেন তাহলে আমাকে নিচের কমেন্ট জানাবেন। 


So, আজ এই পর্যন্ত দেখা হবে নতুন কোন ইন্টারেস্টিং টপিক্স নিয়ে সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ্য থাকবেন এবং সবসময় আসহায় মানুষকে সাহায্য করবেন। 


আল্লাহ হাফেজ

3 Comments

Previous Post Next Post