Hello, বন্ধুরা কেমন আছেন। আশা করি আপনারা আল্লাহ রহমতে ভালো আছেন। আজকে আপনি ডেবিট কার্ড নিয়ে কথা বলবো। অনেক ভাই আমাকে পারসোনালি মেসেজ দিয়ে বললো ভাই ডেবিট কার্ড কিভাবে পাবো, ডেবিট কার্ড কি কাজে লাগে, কোন ব্যাংক এর ডেবিট কার্ড ভালো এবং ডেবিট কার্ড খোলার নিয়ম কি এই সব বিষয়গুলো তারা জানতে চাচ্ছে।
আপনার যদি একটা ব্যাংক একাউন্ট থেকে থাকে তাহলে আপনার এই সব বিষয়গুলো জানা দরকার কারন আপনি যদি না জানেন ডেবিট কার্ড কি কাজে লাগে, ডেবিট কার্ডের বাৎসরিক চার্জ কত তাহলে ব্যাংক আপনার থেকে বেশি টাকা চার্জ করতে পারে আপনার অজানতেই। তাই আমি কথা দিচ্ছি যে আপনি যদি এই আর্টিকেলটা ভালো করে পড়েন তাহলে আপনি ডেবিট কার্ড সংকান্ত সকল কিছু বিস্তারিত ভাবে জানতে পারবেন। তো চলুন শুরু করা যাক।
ডেবিট কার্ড কি
ডেবিট কার্ড হলো একটি প্লাস্টিক পেমেন্ট কার্ড। এটি দিয়ে আপনি অনলাইন ও অফলাইনে থেকে ক্রয় করতে পারবেন। ডেবিট কার্ড আপনার ব্যাংক একাউন্ট এর সাথে সরাসরি যুক্ত থাকে যার ফলে আপনার পেমেন্টকৃত টাকা আপনার কারেন্ট বা চেকিং একাউন্ট থেকে কেটে নেওয়া হয়। মূলত ডেবিট কার্ড হলো একটা পেমেন্ট সিস্টেম যার মাধ্যমে ব্যবহারকারী অনলাইনে পেমেন্ট করার সুবিধা পেয়ে থাকে।
আবার এই কার্ডের মাধ্যমেই আপনি সরাসরি যে কোন এটিএম থেকে নগদ টাকা উওোলন করতে পারবেন ও অথরাইজড মার্চেন্টকেও টাকা প্রদান করতে পারবেন। ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে একজন ব্যবহারকারী তার নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় পন্য ক্রয়ের করার সুবিধা পেয়ে থাকে। এই সুবিধা পেতে হলে আপনার অবশ্যই একটা ব্যাংক একাউন্ট থাকতে হবে।
আরো পড়ুন:
• সেরা ৫টি সবচেয়ে কম দামে বাটন মোবাইল এর দাম ২০২৩
• মোবাইল ট্রেন টিকেট বুকিং করুন খুব সহজে
• Facebook Profile Monetizetion থেকে কীভাবে টাকা আয় করবেন
কোন ব্যাংকের ডেবিট কার্ড ভালো
যার ফলে সকল ব্যাংক তাদের গ্রহকদের কথা চিন্তা করে ডেবিট কার্ড এর অফার তৈরি করে। একেক ব্যাংককে একেক রকম অফার দেওয়া হয় কিন্তু সবার একটাই উদেশ্য হলো ব্যবহারকারী যেন সহজভাবে লেনদেন করতে পারে। একটা কথা মনে রাখবেন যে এই সকল ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক কন্ট্রোল করে থাকে। যার ফলে তারা নিজের ইচ্ছাই কোন কিছু পরিবর্তন করতে পারে না। তাই সকল ডেবিট কার্ড প্রদানকারী ব্যাংক এর অফার খুবই কাছাকাছি হবে। আমি নিচে বাংলাদেশের কিছু জনপ্রিয় ডেবিট কার্ড এর অধিক সুবিধা প্রদানকারী ব্যাংক এর নাম বলে দিচ্ছি।
• ব্যাংক এশিয়া ভিসা ডেবিট কার্ড
• সোনালী ব্যাংক ডেবিট কার্ড
• আমেরিকান এক্সপ্রেস ডেবিট কার্ড
• ইসলামী ব্যাংক ডুয়েল কারেন্সি ডেবিট কার্ড
উপরের দেওয়া এই ব্যাংকগুলোর ডেবিট কার্ডগুলো আপনারা নিতে পারেন। কারন এই ব্যাংকগুলো অনেক বছর ধরে বাংলাদেশে ব্যাংকিং সেবা দিয়ে আসছে এবং তাদের বাংলাদেশের সকল বিভাগেই শাখা রয়েছে। তাই আমার মতে আপনার হাতের কাছের এই ব্যাংকগুলোর যে কোন একটি শাখায় আপনি একাউন্ট খুলে তাদের ডেবিট কার্ড এর সুবিধা নিতে পারেন।
গুগল নিউজে আমাদের সাইটি ফলো করতে এখানে ক্লিক করুন
ডেবিট কার্ড এবং ক্রেডিট কার্ডের মধ্যে পার্থক্য
অনেক ভাই এই বিষয়টা জানেন না ডেবিট কার্ড এবং ক্রেডিট কার্ডের মধ্যে পার্থক্য কি। যাদের ব্যাংকে একাউন্ট আছে তাদের এই বিষয়টা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারন আপনার অজানতে অনেক অর্থ দায় হয়ে যেতে পারে। এখন বলি ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড এর মধ্যে পার্থক্য হলো অর্থ ঋন বা অনলিমিটেড অর্থ ব্যবহার করার সুবিধা ও অসুবিধা।
ডেবিট কার্ড হলো আপনার কারেন্ট বা চেকিং একাউন্ট থেকে যেত টাকা জমা থাকবে তা আপনি এই কার্ডের মাধ্যমে উওোলন বা ব্যবহার করতে পারেন।
আর ক্রেডিট কার্ড হলো একটা অনলিমিটেড মানি কার্ড যার মাধ্যমে আপনার যত টাকা প্রয়োজন তত টাকা আপনি নিতে পারবেন এই কার্ডের ব্যবহার করে।
আপনি প্রতি মাসে ক্রডিট কার্ড এর বিল পরিশোধ করতে হবে। বেস এই দুইটা কার্ড এর মূল জিনিস হলো ডেবিট হলো জমাকৃর্ত লিমিটেড টাকা ও ক্রডিট কার্ড হলো অনলিমিটেড টাকার খনি আশা করি আপনারা ডেবিট ও ক্রডিট কার্ডের মধ্যে পার্থক্য কি তা বুঝতে পেরেছেন।
ডুয়েল কারেন্সি ডেবিট কার্ড কি এবং মাল্টি কারেন্সি ডেবিট কার্ড কি
এখন আমরা জানবো ডুয়েল কারেন্সি ডেবিট কার্ড কি এবং মাল্টি কারেন্সি ডেবিট কার্ড কি। প্রথমে বলি ডুয়েল কারেন্সি ডেবিট কার্ড হলো একটা কার্ডের ভিতর দুইটা দেশের কারেন্সি বা অর্থ সংযুক্ত আছে। যার ফলে সে দেশে ও বিদেশি যে কোন পন্য ক্রয় করতে পারবে এই ডুয়েল কারেন্সি ডেবিট কার্ড দিয়ে।
যদি আমি বাংলাদেশের কথা বলি তাহলে টাকা ও ডলার এই কার্ডে রূপান্তর করা যায়। যখন আপনি বাংলাদেশে কোন পন্য ক্রয় করবেন তখন বাংলাদেশের কারেন্সি টাকা হিসাবে কেটে নেওয়া হবে আর যদি আপনি বিদেশি কোন পন্য ক্রয় করেন তাহলে আগে বাংলাদেশি টাকা থেকে ডলারে রূপান্তর হবে তারপর আপনার কার্ড থেকে ডলার কেটে নেওয়া হবে।
আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেল Join করতে এখানে ক্লিক করুন
মাল্টি কারেন্সি হলো ঠিক সেইম একটা পদ্ধতি যার মাধ্যমে আপনি যে কোন দেশের কারেন্সিতে আপনি কনভার্ট করতে পারবেন। যেমন ধরেন আপনি বাংলাদেশ থেকে কানাডা গিয়েছেন ঘুরার জন্য এবং আপনি কানাড একটা হোটেলে উঠছেন।
আপনি তিন দিন পর আবার বাংলাদেশে ব্যাক করবেন তখন হোটেলে চ্যাক আউট করবেন তখন এই মাল্টি কারেন্সি ডেবিট কার্ডটায় অটো কানাডিয়ান কারেন্সি কন্ভার্ট হয়ে গেছে এবং আপনার কার্ড থেকে টাকা কেটে নেওয়া হবে।
মূলত ডুয়েল কারেন্সি ডেবিট কার্ড কি এবং মাল্টি কারেন্সি ডেবিট কার্ড এদের মধ্যে পার্থক্য হলো সুবিধা নিয়ে। আপনাকে বুঝিয়ে বলি, ডুয়েল কারেন্সি হলো দুইটাই দেশের মুদ্রা একটি থেকে অন্যটি রূপান্তর করতে পারবেন। আর মাল্টি কারেন্সি ডেবিট কার্ড হলো যে কোন দেশের মুদ্রাতে রূপান্তরন হতে পারে এই কার্ড। আমার মতে মাল্টি কারেন্সি ডেবিট কার্ড আপনাদের ব্যবহার করা উচিত কারন এর সুবিধা অধিক।
ডেবিট কার্ড খোলার নিয়ম
ডেবিট কার্ড কিভাবে পাবো এবং ডেবিট কার্ড খোলার নিয়ম সবকিছু বিস্তারিতভাবে বলবো একটু ভালো করে পড়বেন। সর্বপ্রথম ডেবিট কার্ড খোলার জন্য আপনার একটা ব্যাংক একাউন্ট খুলতে হবে।
তারপর আপনার ব্যাংক একাউন্ট এর পাসবুক পেয়ে গেলে আপনি ব্যাংকের কৃর্তি পক্ষ্যকে জানাবেন আপনি ডেবিট কার্ড এর জন্য আবেদন করবেন।
তারপর ব্যাংক থেকে আপনাকে ডেবিট কার্ড জন্য একটা ফরম পূরণ করতে হবে এবং পূরন করা শেষ হয়ে গেলে আপনি ব্যাংক কর্তিপক্ষ্যের কাছে ফরমটি জমা দিবেন।
ফরম এর ভিতর আপনার নাম, ঠিকানা,বাবার নাম, মায়ের নাম, ব্যাংক একাউন্ট নাম্বার ও আপনার এনআইডি এর ফটো কপি দিতে হবে।
এইতো এই সবগুলো তথ্য দিয়ে ফরমটি পূরন করে ব্যাংকে জমা দিতে হবে এবং ১ থেকে ২ সাপ্তাহের ভিতর আপনার ডেবিট কার্ডটি আপনার ঠিকানায় পৌঁছে যাবে।
আমি আশা করি উপরের নিয়মগুলো ফলো করলেই আপনি নিজের নামে একটি ডেবিট কার্ড পেয়ে যাবেন খুব সহজে।
ডেবিট কার্ড একটিভ করার নিয়ম
আমি আসা করবো আপনি ইতিমধ্যে আপনার ডেবিট কার্ডটি হাতে পেয়ে গেছেন। এখন এই কার্ডটিকে একটিভ করতে হবে। ডেবিট কার্ডটি একটিভ করার জন্য আপনাকে ব্যাংকের হেল্প লাইন নাম্বারে কল দিতে হবে।
তারপর কাস্টমার কেয়ারের সাথে কথা বলে তাদের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য দিন এবং তারা আপনার কার্ডটি একটিভ করে দিবে এবং আপনার কার্ডের পিন নাম্বার সেট করতে বলবে। তারপর পিন নাম্বার সেট করলেই আপনার মোবাইল নাম্বারে কার্ড সক্রিয় করার জন্য বলবে তখন কার্ডটি সম্পূর্ণভাবে একটিভ হয়ে যাবে।
ডেবিট কার্ড কি কাজে লাগে
আমরা অনলাইন বা অফলাইন স্টোর থেকে কেনাকাটা করার জন্য ডেবিট কার্ড এর ব্যবহার করে থাকি। এটি দিয়ে যে কোন জায়গায় আমরা পেমেন্ট করতে পারি।
আজকাল সকল ব্যাংক গ্রাহকরাই ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে থাকে কারন এর সুবিধা অনেক। আপনি চাইলে যে কোন এটিএম থেকে নগদ অর্থ উওোলন করতে পারবেন এটি ব্যবহার করে।
মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপগুলো এই ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে টাকা নিয়ে আসা যায় এবং মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্ট থেকে সরাসরি টাকা আপনার ব্যাংক একাউন্টে পাঠানোও যাবে। এই সুবিধাগুলো আপনি ডুয়েল কারেন্সি কার্ড গুলোতেও পেয়ে যাবেন। কিন্তু আপনি বাংলাদেশ থেকে পাসপোর্ট ছাড়া ডুয়েল কারেন্সি ডেবিট কার্ড নিতে পারবেন না। যার ফলে ডুয়েল কারেন্সি ডেবিট কার্ড নিতে হলে আপনাকে অবশ্যই পাসপোর্ট থাকতে হবে।
ডেবিট কার্ড ব্যবহারের নিয়ম
ডেবিট কার্ড মূলত বিনামূল্যে ব্যবহার করা হয়। এজন্য আপনাকে একটা ব্যাংক একাউন্ট খুলতে হবে। একাউন্ট খোলার ফ্রি হলো ৫০০ টাকা নিতে পারে যা পর্বতীতে আপনার ব্যাংক একাউন্টেই থাকবে। এখন বলি ডেবিট কার্ড ব্যবহারের নিয়ম আপনি কেনা কাটা করার জন্য এটি ব্যবহার করতে পারবেন এবং টাকা তোলা টাকা পাঠানো ও বিভিন্ন জায়গায় এটি ব্যবহার করে পেমেন্ট করতে পারবেন খুব সহজেই। আমার অনেক গেমার ভাই আছে তাদের এই কার্ডগুলো তো প্রতিনিয়ত ব্যবহার করা প্রয়োজন হয়।
কারন তাদের প্লে স্টোর থেকে তাদের গেমের যাবএিয় নানা ধরনের জিনিস ক্রয় করতে হয়। যার ফলে তাদের এই ডেবিট কার্ড ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আবার যারা ব্যবসায়ী আছেন তাদের এই কার্ড ছাড়া ব্যবসায় অচল হয়ে যাবে। কারন তারা বাহিরের দেশ থেকে পন্য আমদানি করে কার্ডের মধ্যে পেমেন্ট করতে হয়। তাই উপরের এই কাজগুলো করলেই আপনি ডেবিট কার্ড ব্যবহারের নিয়মগুলো বুঝতে পারবেন।
ডুয়েল কারেন্সি ডেবিট কার্ড চার্জ
আপনি যদি ইন্টারন্যাশনাল পেমেন্ট করেন তাহলে আপনাকে ১% ফি দিতে হবে। মানে হলো আপনি যদি ১০০$ ডলার কার্ড দিয়ে ট্রান্জেকশন করেন তাহলে আপনাকে ১$ ফি দিতে হবে। এই নিয়মটা সকল ব্যাংক এই সমান থাকবে কেউ কম বেশি নিতে পারবে না। বাংলাদেশ ব্যাংক ডুয়েল কারেন্সি ডেবিট কার্ড এর জন্য সকল ব্যাংকের জন্য এই নিয়মটা প্রযোজ্য হবে যার ফলে প্রতি লেনদেনে ১% ফি দিতে হবে৷ আর লোকাল লেনদেনর জন্য কোন ফি কাটা হবে না।
যদি আপনি দেশে বা বিদেশি কোন অন্য এটিএম দিয়ে টাকা উওোলন করেন তাহলে অবশ্যই আপনাকে ফি দিতে হবে ট্রানজেকশন এর জন্য। ফি কম বা বেশি নিতে পারে জায়গা ও লেনদেন এর উপর নির্ভর করে। আর যদি আপনি যদি ওভারড্রাফ্ট সুরক্ষার জন্য নিজের নাম গোপন করে থাকেন তাহলে আপনাকে ফি দিতে হবে।
ডেবিট কার্ড দিয়ে টাকা তোলার নিয়ম
আপনারা অনেকেই ডেবিট কার্ড দিয়ে টাকা তোলার নিয়ম জানেন না। যার কারনে কার্ড দিয়ে টাকা তুলতে গেলে সমস্যায় পড়েন। তাই আমি একদম প্রাকটিক্যাল অকারে ছবির মাধ্যমে সুন্দর করে প্রতিটা স্টেপ ভালো করে দেখিয়ে দিয়েছি।
আমার শেষ কথা
আসা করি, এই পোস্টের মাধ্যমে আপনারা ডেবিট কার্ড কি? কোন ব্যাংকের ডেবিট কার্ড ভালো এবং ডেবিট কার্ড খোলার নিয়ম ও ডেবিট কার্ড দিয়ে টাকা তোলার নিয়ম ডেবিট কার্ড থেকে বিকাশে টাকা সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে এই আর্টিকেলে জানতে পেরেছেন এবং কোথাও বুঝতে সমস্যা হয় নি। যদি কোন কিছু জানার থাকে বা কোথাও বুঝতে না পারেন তাহলে আমাকে নিচের কমেন্টে জানাবেন আমি অবশ্যই আপনার কমেন্টের উওর দিব।
So, সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ্য থাকবেন দেখা হবে নতুন কোন ইন্টারেস্টিং টপিক্স নিয়ে আল্লাহ হাফেজ।
Thanks for shereing this Info
ReplyDeleteHmmm
ReplyDeleteHum right now
ReplyDelete